
জগন্নাথপুর প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে প্রচন্ড শীতকে উপেক্ষা করে বোরো ধান আবাদের ধুম পড়েছে। হাওরে হাওরে জমি আবাদে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে। জমি হালচাষ করা, বীজতলা থেকে ধানের চারা উত্তোলন করা, জমিতে পানি দেয়াসহ ধানচারা রোপন চলছে। প্রচন্ড শীত হওয়ায় দিনমজুর শ্রমিকরা তাদের মজুরির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। গত বছর ৪ থেকে ৫শ টাকা পারিশ্রমিক ছিল। এবার ৬ থেকে ৭শ টাকা হয়ে গেছে। বাড়তি টাকাগুণেও কাঙ্খিত শ্রমিক মিলছে না বলে আনোয়ার মিয়া, এনামুল হকসহ কৃষকেরা জানান। ফলে শ্রমিক সংকটে নিজ পরিবারের ছোট-বড় সদস্যদের নিয়ে অনেকে ঝাপিয়ে পড়েছেন জমিতে। কার আগে কে জমি রোপন করবেন, তা নিয়ে হাওরে রীতিমতো প্রতিযোতিা চলছে। এতে হালচাষে ব্যবহৃত যন্ত্র ট্রাক্টরের কদর বেড়েছে। এ সুযোগে ট্রাক্টরের চালকরাও দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। গত বছর প্রতি কেদার জমি হালের দাম ছিল ৫ থেকে ৬শ টাকা। এবার তা বেড়ে ১ হাজার থেকে ১২শ টাকা হয়েছে। তবুও হালের জন্য ট্রাক্টর চালকের কাছে লাইন দিচ্ছেন কৃষকেরা। সাথে রয়েছে পানি সংকট। হাওরগুলো সমতল না হওয়ায় উচু জমিতে পানি সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকেরা অতিরিক্ত টাকা খরচ করে দীর্ঘ পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানির মেশিন দিয়ে পানি সংগ্রহ করে জমি আবাদ করছেন। ৭ জানুয়ারি বুধবার উপজেলার বিভিন্ন হাওরে সরেজমিনে দেখা যায়, হাওরজুড়ে বোরো আবাদের ধুম পড়েছে। প্রচন্ড শীতকে হারিয়ে দিয়েছেন, হার না মানা কৃষকেরা।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ জানান, প্রচন্ড শীত ও ঘনকুয়াশার কারণে অল্প হলেও জমি আবাদে গতি কমেছে। শীত কমলে ও সুর্য্যের দেখা মিললে গতি বাড়বে। এবার জগন্নাথপুর উপজেলার সবচেয়ে বড় নলুয়ার হাওরসহ ১২টি হাওর ও নন হাওরে ২০ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে। এ পর্যন্ত হাওর পর্যায়ে ৭৫ ভাগ ও নন হাওর পর্যায়ে ৫০ ভাগ জমি রোপন হয়েছে। প্রকৃতি অনুকুলে থাকলে আগামী বৈশাখে বাম্পার বোরো ফসল কৃষক ভাইদের গোলায় উঠবে। ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লক্ষ ৫১০ মেট্রিকটন ধান।