
মোঃ রায়হান পারভেজ নয়ন
স্টাফ রিপোর্টার নীলফামারী
অদম্য মেধা আর প্রযুক্তির প্রতি অদম্য নেশা থেকে ড্রোন, রকেট ও মিসাইল প্রযুক্তিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ব্র্যাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী দেব স্বারতী তীর্থ। করোনাকালীন ঘরবন্দী সময়কে কাজে লাগিয়ে যে প্রোগ্রামিং শেখার শুরু হয়েছিল, আজ তা তাকে নিয়ে গেছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মর্যাদার আসনে। তবে মেধা থাকলেও অর্থের কাছে বারবার থমকে যাচ্ছে এই ক্ষুদে বিজ্ঞানীর ভবিষ্যৎ গবেষণা ও বিদেশের মাটিতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন।
তীর্থে উদ্ভাবিত ‘মাল্টি-ফাংশনাল ড্রোন’ সাধারণ কোনো যন্ত্র নয়; এতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা, অবজেক্ট ট্র্যাকিং এবং স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন। যা মূলত সামরিক বাহিনী বা উদ্ধার অভিযানের উপযোগী ‘মিলিটারি গ্রেড’ ফিচারে সমৃদ্ধ। ড্রোনটি সেন্সর ব্যবহার করে নির্দিষ্ট এলাকা স্ক্যান করতে এবং সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। ড্রোন প্রযুক্তির সীমানা ছাড়িয়ে তীর্থ এখন কাজ করছে অত্যাধুনিক রকেট ও মিসাইল সিস্টেম নিয়ে। তার তৈরি মিসাইল সিস্টেমে যুক্ত করা হয়েছে লো-রাডার সিগনেচার ডিজাইন ও এভেসিভ ম্যানুভারিং টেকনিক, যা শত্রুপক্ষের পাল্টা আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়ানোর সুযোগ তীর্থের সামনে এবারই প্রথম নয়। ইতিপূর্বে মালয়েশিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ডাক পেলেও বিমান ভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচ জোগাতে না পারায় সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেছে। বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় রকেট ও মিসাইল গবেষণা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ হাতে থাকলেও, একই কারণে আবারো অনিশ্চয়তায় পড়েছে তার যাত্রা। তার বাবা তাপস কুমার দাস ও মা সঞ্চীতা সাহা দৈনিক ভোরের বাণীকে আক্ষেপ করে জানান, মেধা থাকলেও সন্তানের স্বপ্ন পূরণে দারিদ্র্য আজ বড় দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভবিষ্যতে সাবমেরিন প্রযুক্তি ও পানির নিচে কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করার রূপরেখা তৈরি করে রেখেছে এই কিশোর। জলঢাকা ব্র্যাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিন্দ্র নাথ রায় বলেন, তীর্থ আমাদের গর্ব। একজন কিশোরের হাতে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, যা বিরল। কিন্তু উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা ও রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা ছাড়া এই মেধাকে টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। বর্তমানে নীলফামারীর এই ক্ষুদে বিজ্ঞানীর গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সমাজের বিত্তবান ও সরকারের সুদৃষ্টিই এখন একমাত্র ভরসা।