শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
খুলনা আর্ট একাডেমির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি অর্জনে গর্বিত প্রতিষ্ঠান মানবিকতার আলোকবর্তিকা স্পেশাল ব্রাঞ্চের মানবিক সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে ক্লাসিক চেস্ ক্লাবের সম্মাননা কবিতাঃ জীবন কবিতা নিয়ামতপুরে সরস্বতী পূজা উদযাপিত জগন্নাথপুরে গণভোটের পক্ষে উৎসাহিত করলেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক গ্রেটার ইসরায়েল শখ মুছে গেলো! জগন্নাথপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনের গণসংযোগ, ভোটারদের ব্যাপক সাড়া বিদ্যুৎ ফাউন্ডেশন: মানবতার আলোর পথে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহবান শোডাউনের মধ্যদিয়ে প্রচারণা শুরু করলেন তুহিন মোরেলগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ভিপিকে গণসংবর্ধনা, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন- অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম

নিঃসঙ্গতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ

Coder Boss
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৪ Time View

লেখক: সাবিত রিজওয়ান

নিঃসঙ্গ জীবনই এখন আমার নিত্যসঙ্গী। বেকারত্বে দিন কাটে, আর প্রতিটা দিনই একটু একটু করে ভারী হয়ে ওঠে। কত যে খারাপ লাগে, সেটা কাউকে বোঝানো যায় না। বন্ধু ছিল, কিন্তু সময়ের সাথে সবাই দূরে সরে গেছে। তারা আমার চেয়ে ভালো বন্ধু পেয়েছে, ভালো জায়গায় গেছে। দোষটা তাদের নয়, ব্যর্থতাটা আমারই। আমি পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারিনি।

একটা সময় প্রেমেও ছিলাম। বছর ঘুরতেই বুঝেছি, বিশ্বাসের মুখোশ কত সহজে খুলে পড়ে। কিছু বন্ধু আমাকে ভুলেই গেছে। নামটা পর্যন্ত ঠিক মনে নেই। সামনাসামনি দেখা হলেও কথা হয় না। আমি ভাবি, একটু সাড়া দিলে কি তাদের সম্মান কমে যেত?

জুনিয়রদের কাছে সম্মান পাই না, সিনিয়রদের কাছে স্নেহ বা আদর পাই না। ভালোবাসা তো দূরের কথা। আমিও কয়েকজনকে সম্মান করেছি, স্নেহ দেখিয়েছি। কিন্তু সেটা একতরফা হয়ে গেছে কিনা, আজ বুঝি না। শুধু বুঝি, সবকিছুই বৃথা মনে হয়। সবাই চায় পেতে, দিতে চায় না।

একটা দৃশ্য আমাকে খুব ভাবায়। একটি শিশু যেভাবে আদর আর যত্নে বড় হয়, বাবা-মা তাকে আগলে রাখে। কিন্তু সেই বাবা যখন বৃদ্ধ হয়, শিশুর মতো অসহায় হয়ে পড়ে, তখন সেই শিশুই আর বাবার যত্ন নেয় না। নিলেও থাকে বিরক্তি, থাকে ঘৃণা। এই সমাজে সেই চিত্রটাই বারবার দেখি।

আমি কাউকে শিক্ষক হিসেবে পাইনি, যিনি আমাকে জীবনযাপনের হাতেখড়ি শেখাবেন। চারপাশে তাকালে দেখি সবকিছুই যেন ব্যবসা। প্রতিযোগিতা চলছে প্রতিদিন। আমি দেখতে দেখতেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। মাঠে নামার শক্তি আর পাই না।

আল্লাহ দয়া করবেন, এ বিশ্বাস আছে। কিন্তু কবে করবেন, সেটা জানি না। মানুষ এত চালাক, আর নিজেকে আমার সবচেয়ে বোকা মনে হয়। অভাবের পর অভাব জমে ভরে উঠছে জীবনে, অথচ সফলতার ঘর আজও শূন্য। কবে আমি চালাক হব? কবে সফল হব? অনেকে বলে, তুফানের দ্বারা কিছু হবে না। এই কথাগুলো ভেতরে গেঁথে যায়।

যে সময়গুলো আগে আনন্দে কাটত, এখন সেগুলোই কাটে হতাশায়। কিছুই ভালো লাগে না। পরিবারও হয়তো আমাকে বোঝা মনে করে। তাদের বয়স হচ্ছে, এটাও বুঝি। আগে বলতাম, আমি অনেকদিন বাঁচতে চাই। এখন মাঝে মাঝে মৃত্যুও শান্তির মতো লাগে।

কত স্বপ্নই না দেখেছিলাম। আজ সেগুলো সব ভাঙা। তবু আল্লাহর কাছে একটাই দোয়া—আমি যেন সফলতা দেখে মরতে পারি। ধন-সম্পদ, টাকা-পয়সা চাই। চাই বড় হতে। শুধু নিজের জন্য না। চাই আমার হাত ধরে কেউ দুমুঠো ভাত পাক।

আমি চাই এমন জায়গায় যেতে, যেখানে পুরো বিশ্ব আমার সাথে কথা বলতে চায়। আমার কথার ওজন থাকুক। বিশ্ব আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে আগ্রহী হোক। এটা অহংকার নয়, এটা স্বপ্ন।

আমি সুখ খুঁজি।
এমন এক সুখ, যার ছায়ায় সবাই মানুষ হয়ে বাঁচতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102