
স্টাফ রিপোর্টার:
গৃহকর্মীদের মর্যাদা, সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিতকরণে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, আইনি জটিলতা ও বাস্তবতা চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। এ সময় তারা দেশের বর্তমান আইন ও নীতিমালা এবং আন্তর্জাতিক মান, বিশেষ করে আইএলও কনভেনশন ১৮৯ কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট-এ অনুষ্ঠিত গৃহকর্মীদের মর্যাদা, সুরক্ষা ও অধিকার বিষয়ক পলিসি ডায়লগ ও কনসাল্টেশন সভা ২০২৬-এ এই মন্তব্যগুলো করেন বিশিষ্ট অতিথিরা। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে নারী মৈত্রী, সহযোগিতা করেছে ক্রিশ্চিয়ান এইড, এবং অর্থায়ন করেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নারী মৈত্রী’র সভাপতি মাসুমা আলম। গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্কের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী আবুল হোসাইন, বিলসের পরিচালক নাজমা ইয়াসমীন, নারী মৈত্রীর প্রকল্প ফোকাল নাহীদ সুলতানা, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর নাইমা রহমান, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়নের উপ সচিব মোবাশের হাসান, জাতীয় গৃহস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়নের মুরশিদা আকতার, ব্লাস্টের এডভোকেট আমানউল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নারী মৈত্রীর প্রোগ্রাম পরিচালক মোঃ খালিদ বিন ইউসুফ, এবং গৃহকর্মীদের দাবিনামা উপস্থাপন করেন গৃহশ্রমিক উর্মী আকতার। এছাড়া অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইউএনডিপি বাংলাদেশ-এর মশিউর রহমান, ক্রিশ্চিয়ান এইডের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মুশফিকুর রহমান, বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির এডভোকেট শাহীন মমতাজ, আমরাই পারি-এর ফারহান মাহমুদ, গৃহকর্মী জাতীয় ফোরামের জাহানারা আকতার স্বপ্না, এবং শহর সমাজসেবা কার্যালয়-০৬-এর অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম।
আবুল হোসাইন বলেন, “গৃহশ্রমিকদের মর্যাদা নিশ্চিত করা সব নাগরিকের দায়িত্ব। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গৃহশ্রমিক আইন পাশ করেছে। তবে অধ্যাদেশ নং ৬৫, ২০২৫ (বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর সংশোধন) তে সুনির্দিষ্ট সুরক্ষা বা বিশেষ সুবিধার উল্লেখ নেই। মজুরি বিধান প্রণয়ন ও নিয়োগপত্র সংযোজন প্রয়োজন।”
নাজমা ইয়াসমীন বলেন, “আইএলও কনভেনশন ১৮৯ অনুসারে গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণনীতি ২০১৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে এখনও গৃহশ্রমিকের সংজ্ঞা নির্ধারণ হয়নি এবং তাদের সঠিক সংখ্যা জানা নেই। পরিসংখ্যান ছাড়া তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।”
নাইমা রহমান বলেন, “গৃহ পরিচারিকাদের সাথে ভালো ব্যবহার এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। যেমন সরকারি কর্মকর্তাদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা, বাসা ভাড়া সুবিধা দেওয়া হয়, ঠিক তেমনই গৃহশ্রমিকদেরও বেতন, ইনক্রিমেন্ট, বাসা ভাড়া ও চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া উচিত। আমরা একটি জাতীয় জরিপের মাধ্যমে দেশে গৃহশ্রমিকদের সংখ্যা নির্ধারণের অঙ্গীকার করেছি।”
গৃহশ্রমিকরা ১৪ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে-
গৃহকর্মীদের নিবন্ধন ও তথ্য রক্ষণাবেক্ষণ সরকারের মনিটরিং সেলের মাধ্যমে নিশ্চিত করা
শহরে কাজে পাঠানোর আগে নিজ ইউনিয়ন ও থানায় নিবন্ধন
সকল গৃহকর্মীর জন্য জাতীয়ভাবে পরিচয়পত্র প্রদান
সরকারি উদ্যোগে একটি ডাটাবেইজ তৈরি
আর্থিক নিরাপত্তার জন্য ডিজিটাল ব্যাংকিং সুবিধা
আধুনিক গৃহস্থালি ও বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রশিক্ষণ
শিশুদের নিরাপত্তার জন্য ডে-কেয়ার সুবিধা
সহিংসতামূলক মামলা নিয়মিত তদারকি
সামাজিক নিরাপত্তা, জাতীয় পেনশন স্কিম ও শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্তি
সভায় অংশগ্রহণকারীরা একমত হয়েছেন, দেশের গৃহশ্রমিকদের মর্যাদা, অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা নাগরিক ও রাষ্ট্রের সমন্বিত দায়িত্ব।