
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শেরেবাংলা নগরে তার মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নাগরিক প্রজন্ম দল সহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।
এ উপলক্ষে আজ বেলা সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নাগরিক প্রজন্ম দল এর সভাপতি সাহেদ উদ্দিন এর নির্দেশে সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন চৌধুরী ও সহ-সভাপতি আলমাস আলি সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে তারা সেখানে ফাতেহা পাঠ করেন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সেনাপ্রধান, স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন।
শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজামুদ্দিন, মিরাজুল ইসলাম, সহ সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান জিলন, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান টুকু, অর্থ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক জাকির হোসেন,অর্থ বিষয়ক সম্পাদক, মোঃ আনোয়ার হোসেন, মোঃ নাসির উদ্দিন চুন্নু, মোহাম্মদ জলিল প্রমাণিক কেন্দ্রীয় কমিটির সহ কৃষি বিষয়ক সম্পাদক, জাতীয়তাবাদ নাগরিক প্রজন্ম দল কেন্দ্রীয় কমিটির আরো হাজার হাজার নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মদিনের উপলক্ষে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থকরা মিছিল ও বিভিন্ন স্লোগান সহকারে শেরে বাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের মাজার প্রাঙ্গনে সমবেত হতে থাকেন।
বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী শহীদ প্রেসিডন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের গণ-মানুষের কাছে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃত হয়েছেন।
একজন সৈনিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও তাঁর জীবনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, দেশের সকল সঙ্কটে তিনি ত্রাণকর্তা হিসেবে বার বার অবতীর্ণ হয়েছেন। দেশকে সংকট থেকে বারবার মুক্ত করেছেন।
জিয়াউর রহমান অস্ত্র হাতে নিয়ে যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধ শেষে আবার পেশাদার সৈনিক জীবনে ফিরে গেছেন।
জিয়াউর রহমান সময়ের প্রয়োজনেই প্রায় সাড়ে চার দশক আগে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তাঁর গড়া সেই রাজনৈতিক দল তাঁর সহধর্মিণী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃত।
বেগম খালেদা জিয়া দেশের জনপ্রিয় নেতৃত্বে পরিণত হন। জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা ও বেগম খালেদা জিয়ার নিজস্ব নেতৃত্ব গুণে তিনি তিন তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
অসাধারণ দেশপ্রেমিক, অসম সাহসীকতা, সততা-নিষ্ঠা ও সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের প্রতীক জিয়াউর রহমানের অবদান দেশের জন্য অসামান্য।
১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে খেমকারান সেক্টরে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে জিয়াউর রহমান যুদ্ধ করেন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন তিনি।
জিয়াউর রহমান বিশ্ব মানচিত্রে স্বাতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশীদের ব্যাপকভাবে পরিচিত করিয়েছেন। তাঁর শাসনামলে জাতির মর্যাদাও বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে।
এখনও প্রতিটি মানুষ জিয়াউর রহমানের সৈনিক ও রাজনৈতিক জীবনের সততা, নিষ্ঠা ও নিরলস পরিশ্রম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক হিসেবেও তাঁর পরিচিতি সর্বজনবিদিত।
সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন ও দিক-নির্দেশনা।
১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলীতে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। তার ডাক নাম কমল। ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা করেন তিনি। ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে আবারও আলোচনায় আসেন জিয়াউর রহমান। নানা পটপরিবর্তনের একপর্যায়ে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।