শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
খুলনা আর্ট একাডেমির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি অর্জনে গর্বিত প্রতিষ্ঠান মানবিকতার আলোকবর্তিকা স্পেশাল ব্রাঞ্চের মানবিক সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে ক্লাসিক চেস্ ক্লাবের সম্মাননা কবিতাঃ জীবন কবিতা নিয়ামতপুরে সরস্বতী পূজা উদযাপিত জগন্নাথপুরে গণভোটের পক্ষে উৎসাহিত করলেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক গ্রেটার ইসরায়েল শখ মুছে গেলো! জগন্নাথপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনের গণসংযোগ, ভোটারদের ব্যাপক সাড়া বিদ্যুৎ ফাউন্ডেশন: মানবতার আলোর পথে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহবান শোডাউনের মধ্যদিয়ে প্রচারণা শুরু করলেন তুহিন মোরেলগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ভিপিকে গণসংবর্ধনা, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন- অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম

যান্ত্রিক যুগেও টিকে আছে শেকড়ের টান- বিরামপুরের ইসলামপাড়ায় ঢেঁকির শব্দে ফিরে আসে গ্রামবাংলার গল্প

Coder Boss
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮ Time View

 

মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:

যখন সারা দেশ আধুনিকতার ছোঁয়ায় যন্ত্রনির্ভর জীবনে অভ্যস্ত, তখন ২০২৬ সালেও দিনাজপুরের বিরামপুর পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের ইসলামপাড়া গ্রামে এখনো শোনা যায় ঢেঁকির ছন্দময় ঢং… ঢং… শব্দ। সেই শব্দ যেন শুধু ধান ভাঙার নয়—এটি গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যের হৃদস্পন্দন।

ইসলামপাড়া গ্রামের মাবিয়া বেগমের উঠানে দাঁড়ালেই চোখে পড়ে একটি কাঠের তৈরি পুরোনো ঢেঁকি। বয়সের ভারে কিছুটা জীর্ণ হলেও তার কার্যকারিতা আজও অটুট। আধুনিক রাইস মিলের যুগে দাঁড়িয়ে এই ঢেঁকি দিয়েই ভাঙা হচ্ছে ধান—তৈরি হচ্ছে চাল। সেই চাল দিয়েই রান্না হবে ক্ষীর, যা খাওয়ানো হবে গ্রামের ছোট ছোট শিশুদের।

ঢেঁকি মূলত গ্রামবাংলার প্রাচীন খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্র। যুগ যুগ ধরে ধান থেকে চাল, চাল থেকে আটা কিংবা নানা ধরনের খাদ্য প্রস্তুতে ঢেঁকি ছিল অপরিহার্য। বিদ্যুৎ বা জ্বালানি ছাড়াই মানুষের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এই যন্ত্র খাদ্য উৎপাদনে ভূমিকা রেখেছে শত শত বছর।

ঢেঁকিতে ভাঙা ধানে চালের পুষ্টিগুণ অনেকাংশে অক্ষুণ্ন থাকে। ধানের খোসা ধীরে ছাড়ানো হয় বলে চাল হয় সুগন্ধি ও স্বাস্থ্যসম্মত। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য ঢেঁকিতে ভাঙা চাল বেশি উপকারী।

এক সময় গ্রামবাংলার প্রতিটি উঠানেই ছিল ঢেঁকি। নারীদের মিলনস্থল ছিল এই ঢেঁকির চারপাশ। গল্প, হাসি আর শ্রমে মুখর থাকত সকাল-বিকেল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই দৃশ্য আজ প্রায় বিলুপ্ত। বিদ্যুৎচালিত মেশিন আর রাইস মিল ঢেঁকিকে ঠেলে দিয়েছে বিস্মৃতির অতলে।

২০২৬ সালেও ঢেঁকির ব্যবহার—একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ মাবিয়া বেগম বলেন, “মেশিনে ভাঙা চাল পাওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু ঢেঁকিতে ভাঙা চালে যে স্বাদ আছে, তা আলাদা। শিশুদের জন্য ক্ষীর বানাবো বলেই ঢেঁকিতে ধান ভাঙছি।”

তার এই উদ্যোগ শুধু খাদ্য প্রস্তুত নয়—এটি এক ধরনের মানবিকতা, ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা এবং শেকড়কে আঁকড়ে ধরার প্রতীক।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102