
কামরুল হাসান কানন
ফোরামের নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক দৃশ্য—মানুষের আশা, চুপচাপ ক্ষোভ এবং কখনো কখনো অপ্রকাশিত আকাঙ্ক্ষার স্তর। মোঃ রেজন মিয়া এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন, তবে তার কাজের কেন্দ্রবিন্দু কেবল কাঠামো নয়; এটি মানুষের অনুভূতি, তাদের দৈনন্দিন জীবন এবং সমাজের অদৃশ্য ফাঁকফোকর খুঁজে বের করার চেষ্টা।
যেখানে অনেকেই নিজেদের কথাগুলো প্রকাশ করতে ভয় পান, সেখানে ফোরামের শীতল নীরবতায় মানুষের মন যেন একটু সহজে খোলে। কথাগুলো হয়তো সরাসরি প্রশাসনের কাছে পৌঁছায় না, কিন্তু সেখানে সেগুলো শোনার, বুঝার এবং ভাবার জায়গা তৈরি হয়। এটাই ফোরামের সৌন্দর্য—একটি অদৃশ্য সংযোগ, যা মানুষের অভ্যন্তরীণ অনুভূতি এবং সমাজের ধীর পরিবর্তনের মধ্যে খুঁটিনাটি দাগ তুলে দেয়।
ফোরামের কাজের প্রকৃতি বলছে, মানুষের অভিজ্ঞতা এবং ক্ষুদ্র অস্বস্তির কথাগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি মনোভাব, প্রতিটি প্রশ্ন, প্রতিটি ক্ষোভ—এগুলো যখন কেউ শুনে, বোঝে এবং বিশ্লেষণ করে, তখন তারা শুধু ব্যক্তি বা এলাকা নয়, পুরো সমাজের প্রতিবিম্ব হয়ে ওঠে।
এখানেই ফোরামের শক্তি। এটি কেবল কোনো কার্যক্রমের হিসাব নয়, বরং মানুষের ভাবনার আড়ালে থাকা গল্প, নীরব প্রশ্ন এবং দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ অস্বস্তিকে প্রকাশের একটি মাধ্যম। মানুষ যখন ভয়, হতাশা, আশা—all these mix together—ফোরাম সেই সংযোগটিকে আকার দেয়, যা কোনো রূপে সরাসরি প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত নয়, কিন্তু তার প্রভাব সমাজের মধ্যে অনুভূত হয়।
বাংলাদেশ জনকামনা ফোরাম তাই একটি প্রতিফলন। এটি মনে করিয়ে দেয়, সমাজের স্থির ছাপের ভেতরেও কত অদৃশ্য দাগ আছে, কত অনুল্লিখিত কথা আছে, যা জানালে হয়তো পরিবর্তন আসে। প্রতিষ্ঠানটি তাই কেবল নাম বা কর্মসূচির বিষয় নয়; এটি মানুষের অন্তর্দৃষ্টি, সামাজিক মনোবৃত্তি এবং দৈনন্দিন জীবনকে সংযুক্ত করার এক নীরব, কিন্তু শক্তিশালী পথ।