
কলমে: শিরিনা আক্তার
বাসন্তীকা দক্ষিণা বাতাস মোহে,
কোথায় ছুটে চলেছ তুমি?
তোমার স্পর্শে নীলাদ্রি আভা,
ফুল ফোটে অবিরত, রঙে রঙে ভরে ওঠে ধরণি।
যদি মনে পড়ে সেদিন , তবে এসো—
আবার কোনো বসন্ত বেলায়।
দুজনে কুড়িয়ে নেবো ফুলের বাহার,
শুনবো কুহুতান কোনো নির্জন বনে,
নিস্তব্ধতার গভীর আবেশে।
যেখানে নেই শীতের ভারী চাদর,
নেই বর্ষার অঝোর অশ্রুধারা—
শুধু দক্ষিণা হাওয়ায় ফাগুনের
রঙিন উচ্ছ্বাসের ছড়াছড়ি।
সেখানে হারাবো দুজন।
রাঙা শিমুল খোঁপায় গুঁজে তোমার
আলতা-রাঙা পা দুটো দুলে ওঠে তাল-লয়ে,
আঁখির নীড়ে আঁকা,
রূপময় বাংলার অপরূপ ছবি।
এখানে দক্ষিণে সুবিশাল জলরাশি,
পূর্বে পাহাড় আর ঝর্ণার কলকল ধ্বনি,
পশ্চিমে সবুজ বনানীর সমারোহ,
উত্তরে সোনালি ফসলের নয়নাভিরাম মাঠ।
রূপমুগ্ধ কবির চোখ!
তাকিয়ে থাকে অপলক—
এই বাংলার বুকে লুকানো
অপরূপ সৌন্দর্যের দিকে।
শ্যামলিমা তোমার মতো।
কোন এক বসন্তে এসো বাংলায়,
হেঁটে যাও উর্বর পলিমাটির সবুজ নরম ঘাসে।
বসন্ত বাতাস
ফুলেল শুভেচ্ছায় তোমায় জানাবে অভ্যর্থনা।
মৌমাছি ডাকবে গুঞ্জনে সুমধুর গাছের শাখায়।
বারবার ফিরে আসবে সে ডাক—
পদ্মা, মেঘনা আর যমুনার ঢেউ বেয়ে।
যদি ভালো লাগে,
যদি হৃদয়ে জাগে বসন্তের সুর,
তবে ভালোবেসে এসো—
বাসন্তী উৎসবে।
নতুন পাতায় ছাওয়া গাছের ডাল
তুলে দেবো তোমার হাতে,
আর দেবো রক্তলাল কৃষ্ণচূড়া—
বসন্তের অমলিন ভালোবাসার অর্ঘ্য।