
স্টাফ রিপোর্টার
পবিত্র রমজান মাসে আল্লাহ প্রেমিকদের আধ্যাত্মিক বাগান ফুলে ফলে সুশোভিত হয়ে ওঠে।
রমজান মাসকে দানের মাস বলা হয়। কেননা, এ মাসে একটি নফল ইবাদত করলে একটি ফরজের সমান সওয়াব; আর একটি ফরজ ইবাদত করলে ৭০টি ফরজের সওয়াব দেওয়া হয়। অসহায়দের প্রতি সাহায্যের হাত সম্প্রসারিত করে বিপুল সওয়াব লাভের সর্বোত্তম সময় এ রমজান মাস। অনেক গরিব-দুঃখী আছে, যারা সাহরি ও ইফতারে সামান্য খাবারও জোগাড় করতে হিমশিম খায়। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় রমজানে তাদের দুঃখটা খানিক বেড়ে যায়। এ ধরনের মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া ঈমানি কর্তব্য। মাহে রমজান মানুষকে দানশীলতা, বদান্যতা, উদারতা ও মহত্তের শিক্ষা দেয়। কোনো প্রকার অপচয় না করে রোজার মাসে মানুষের সেবায় দান-সদকা করলে অভাবক্লিষ্ট মানুষের কল্যাণ হয় এবং মানবতা উপকৃত হয়।
ইসলাম কল্যাণের পথে যেমন ধাবিত হতে বলে, তেমনি কল্যাণের পথে চলার মতো সব আয়োজনও করে দেয়। একে অপরকেও কল্যাণের পথে সহযোগী হতে বলে। কুরআন-হাদীসে এধরনের বার্তা বহু আছে। কখনো বলেছে, সৎকাজ ও তাকওয়ার পথে পরস্পরকে সহায়তা করো। কখনো বলেছে, একে অপরকে সত্যের ওসিয়ত করো, সবরের ওসিয়ত করো।
হাদীস আমাদের বার্তা দেয়, এক মানুষ আরেক মানুষকে সহায়তা করলে আল্লাহ্ও তার সহায়তা করেন। এমনকি জালেমকেও সহায়তা করতে বলেছে ইসলাম। জালেমের সহায়তা হয় কী করে?
জালেমের সহায়তা হয়, তাকে জুলুম থেকে নিবৃত্ত করার মাধ্যমে।
মানুষ মানুষকে নানাভাবেই সহায়তা করতে পারে। রমযানে মানুষকে কল্যাণ ও তাকওয়ার পথে সহায়তার একটি অংশ হল, আর্থিক অনুদান। এ অনুদান মানুষকে শ্রমসাধ্য ও ভারি কাজ কমিয়ে আনতে সহায়তা করে। ফলে মানুষ সহজে রোযা রাখতে পারে। রাতের তারাবী অনায়াসে আদায় করতে পারে। আর্থিক সহায়তাপ্রাপ্ত মানুষটি নিবিষ্ট মনে আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করতে পারে।
আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন দানের বেলায় উপমাহীন। তিনি মানুষকে দান করতেন দারিদ্র্যের ভয় না করে। একবার একজনকে দান করেছিলেন মাঠভর্তি ছাগল। এত বড় অনুদান পেয়ে লোকটি নিজ গোত্রের কাছে ফিরে বলেছিলেন, তোমরা মুহাম্মাদের দ্বীনের ওপর ঈমান আনো। তিনি এমনভাবে দান করেন, যেন দারিদ্র্যকে ভয় পান না। সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৩১২
তিনি দানকে মনে করতেন স্থায়ী সম্পদ। একদিন ঘরে বকরী জবাই হল। নবীজী জিজ্ঞেস করলেন, কতটুকু বাকি আছে? ঘর থেকে বলা হল, কাঁধের অংশটাই শুধু আছে। বাকিটা দান করা হয়ে গেছে।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না বরং কাঁধের অংশ ছাড়া বাকিটা রয়ে গেছে। জামে তিরমিযী, হাদীস ২৪৭০
এমনই ছিল নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দানের হাত।
অনেক দিনমজুরই কষ্টসাধ্য কাজের কারণে রোযা রাখতে পারে না। আমাদের একটু উদারহস্তের দ্বারা এ মানুষগুলো বরকতময় মাসের বরকত লাভ করতে পারে। খোদার নাফরমানী থেকে বেঁচে যেতে পারে। আমাদের চোখের সামনে সবচেয়ে বেশি কষ্ট করে রিকশাওয়ালারা। তাদেরকে এক বেলার ইনকাম পরিমাণ দান করলে ওই দিনের রোযাটা রাখতে পারে।
অনেক মানুষই অর্থের অভাবে সাহরী-ইফতারে ভালো খাবারের ব্যবস্থা করতে পারে না। আমার মনোযোগ ওদের সাহরী-ইফতার সহজ ও স্বাস্থ্যকর করে তুলতে পারে। এভাবে আমরা খেয়াল করলে রমযানের বরকত সবশ্রেণি পেশার মানুষকে ছুঁয়ে যাবে। সহমর্মিতার মাসে সত্যিকার অর্থে সহমর্মী সমাজ গড়ে উঠবে।
রমযানের মতো মহিমাময় মাসে, রমযানের স্নিগ্ধ দিনগুলোতে, প্রশান্ত রাতগুলোতে আমরা যেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আরো কাছাকাছি যেতে পারি। দান-সদকা ও মানবসেবার মাধ্যমে আশপাশের মানুষের রমযানগুলোকে যেন আরো সুন্দর করে তুলতে পারি। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাওফীক দান করুন আমীন।
তাই আসুন, আমরা সবাই এই রমজানে রোজার সাধনা দ্বারা নিজকে কবুলিয়তে দোয়ার মোকামে উপনীত করতে আপ্রাণ চেষ্টা-প্রচেষ্টায় রত করি। মহান আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে পবিত্র রমজানের দিনগুলোয় অনেক বেশি ইবাদত-বন্দেগিতে রত থাকতে এবং আল্লাহপাকের হক এবং বান্দার হক প্রদানের ক্ষেত্রেও যেন সচেষ্ট হতে পারি, সেই তৌফিক দান করুন, আমিন।
লেখক-পীর সাহেব গূরুরবাড়ী পাক দরবার শরীফ, চেয়ারম্যান আমি‘র খোঁজে ফাউন্ডেশন।