
লেখকঃ মানিক পাল
–তোমার জন্মদিন কবে?
–যেগো নুন আনতে পান্তা ফুরায়,
তাগো কোনো দিন আলাদা হইয়া উঠে না।
বয়স বাড়ে,
তারিখ বাড়ে না।
–ভালোবাসা দিবস?
–ভালোবাসা থাহে
নিজের থেইকা তুইলা দেওয়া
শেষ লোকমায়,
যেইহানে নিজের থালায়
আর কিচ্ছু থাহে না।
–নববর্ষ?
–পুরান দিনেরাই আবারে আইয়া পড়ে,
নতুন নাম দিয়া
হেই একই কষ্ট আবার শুরু হয়।
–উৎসবের দিন?
–আলো জ্বলে অন্য ঘরে,
এইহানে আহে শুধু তার ছায়া,
অল্প আলো,
বেশি অন্ধার।
–শ্রমিক দিবস?
–রোজ রোজ হেই একই কাম,
একই ঘাম,
কোনো দিন আলাদা কইরা চিনা যায় না।
–শিশু দিবস?
–ছোটবেলা বেশি দিন থাহে না,
খেলার আগেই
কাম আইয়া দরজায় দাঁড়ায়।
–নারী দিবস?
–রোজ ফজরে
নারী দিবস বইলা আলাদা কিচ্ছু আহে না,
হেই একই কাম, একই টানাটানি,
শেষে
চুপ্পে ক্লান্ত হইয়া পইড়া থাহে।
–কেউ খবর রাখে?
–ভোট আইলে
মুখ চেনে সবাই,
ভোট গেলে
কেউ আর চিনে না।
–তাহলে তোমাদের কোনো দিবস নেই?
–রোজ রোজ একেকটা পরীক্ষা,
একেকটা লড়াই,
এইডার খোঁজ কেউ রাহে না।
–তবু, কোনো বিশেষ দিন?
–বিশেষ কইরা রাখার কিছু নাই,
দিনগুলা একটার লগে আরেকটা মিশা যায়,
আলাদা কইরা চিনা যায় না।
–তাহলে তোমাদের জন্য কোনো দিন লেখা হয়নি?
–হয়তো লেখা আছে কোথাও,
কিন্তু ওই ক্যালেন্ডার
আমাগো দেয়ালে ঝুলা নাই।
গরীবের দিনেরাই কোনো বিশেষ কিছু না।