
কলমেঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
পঁচিশে মার্চ বেদনায় অংকুরিত প্রসব বেদনায় স্বাধীনতা
মর্টার মেশিনগানে ঝাঁঝরা করতে-করতে এগিয়েছিল অপারেশন সার্চলাইট!
সাড়ে সাতকোটি বাঙালি সাতই মার্চ রেসকোর্সে বুঝেছিল, স্বাধীনতার জন্য রক্ত প্রয়োজন
কুলি মজুর কামলা কিশান ডোম মেথর বুঝে ছিল, নাথিং স্যুড বি এ্যাসিভড উইদাউট ফাইট!
বেজে উঠেছিলো জাতীয় সঙ্গীত পাতার মর্মর ধ্বনিতে, লাশের স্তুপ সারিতে
পঁচিশে মার্চ লেট নাইট স্বাধীনতা ঘোষিত হলো ইপিআর এর ওয়ারলেস ইথারে!
শতসহস্র মরামুখ সারা বাংলার বড় সব শহরের অলিগলি পথে
দিশেহারা বাঙালি, ঈশ্বরহীন ধরা, কার কাছে করে অভিযোগ আকাশ-বাতাস পাথারে?
ঘরহীন নিদ্রা নাহি চোখে, ছুটে সবে প্রতিবেশী দেশে, ছিন্ন ধূতি লুঙ্গি বেশে
গ্রেফতার মুজিব, স্বাধীনতা ঘোষণার শেষে , রাত তখন দেড়টা বাজে!
কত নারী ততক্ষনে নিলো বিধবার বেশ, সিঁথি র সিঁদুর মুছি – এলো থেলো কেশ
মর্টার মেশিনগান গর্জে চললো, কাফের নিধন কাজে!
হাড্ডি কঙ্কালসার মা-বাবাকে, কোন যুবক ঝুলিয়ে ঝুড়িতে কাঁধের দু’ধারে
নতুন দেশের জন্ম দিতে ছুটেছে তেজী তরুণ, কাঁপছে মাটি তাঁর পাদ ভারে!
কতজনের চোখ বেঁধে বুটের লাথিতে দাঁত দিলো ভেঙে ‘জয় বাংলা’ বলার অপরাধে
কত যুবতীর শাড়ী নিলো খুলে, ইসলাম বাঁচাতে, নিলো মা-মেয়ের এক করে!
ন’মাস কোমরে কার্তুজ গুজে, ঘাড়ে রাইফেল স্টেন রক্তগঙ্গা বয়ে
উন্মুক্ত গ্রেনেড ছুঁড়ে, ছিনিয়ে আনলো স্বাধীনতা, জয়বাংলা গান গেয়ে!
ছিনিয়ে আনলো তাদের নেতা, “মুজিব” নামের এক জাতির পিতা
দীর্ঘ তেরোটা বছরের কারাগারে কাটানো অকুতোভয় এক বিশ্ব নেতা!