
কবি: মুহাম্মাদ বায়েজিদ বোস্তামী
কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ
শত অবহেলা সয়েছি নীরবে, চেয়েছি শুধু ভালোবাসা,
বুঝনি তুমি কোনোদিনও মোর হৃদয়ের আকুল আশা।
অসম্মান আর অবাধ্যতায় খুঁজে পেতে তুমি তৃপ্তি,
আমার দুচোখে ঝরতো কেবল বুকফাটা কষ্টের দীপ্তি।
আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিয়ে তুমি ছিলে বড় বেহুঁশ,
সামাজিক মান ধুলোয় মিশিয়ে মেতেছিলে সবে হুঁশ।
মাতা-পিতাকে নিয়ে খেলেছো তুমি নিচু মনের এই খেলা,
ভুলেছিলে তুমি নিজের সম্মান, দিয়েছিলে মোরে অবহেলা।
কথায় কথায় নিষ্ঠুর আঘাতে করো তুমি কষাঘাত,
সংসার ভাঙার হুমকিতে মোর নির্ঘুমে কাটতো কত রাত।
কলিজা আমার দলিত হতো, পুড়ে হতো ছাই,
তোমার দংশনে ক্ষতবিক্ষত, বাঁচার উপায় নাই।
ওগো মোর বধু! প্রশ্ন জাগে আজ বিদীর্ণ এই মনে,
বাবার বাড়িই সেরা হয় যদি, জড়ালে কেন এই জীবনে?
কেন তবে দিলে আমায় এই নিদারুণ নরক যন্ত্রণা?
কেন মানসিক ক্ষত বাড়িয়ে করলে এই বিষম লাঞ্ছনা?
তর্কে জেতার নেশায় তুমি করো আমায় প্রতিঘাত,
তোমার জেদেই পুড়ে ছাই হয় সাজানো এই কায়ানাত।
সন্তান তোমার আপন হয় না, হয় না মাছুম বাচ্চা?
নিজের জেদকে জিতিয়ে রাখতে করো যা মনে ইচ্ছা।
জয়ী হওয়ার মিথ্যা সুখে হারালে আপন জন,
অন্ধ অহমে ভাঙলে তুমি ভালোবাসার এই ভুবন।
আপন মানুষ পর করেছো, পেতে মিছে সুখের ধন,
স্বার্থের টানে অন্ধ তুমি, বুঝলে না কারো মন।
স্ত্রী হিসেবে কাছে পেতে চাইলে, ধরো নানান বাহানা,
আসলে কী তুমি অন্য কারো সত্যি আমায় বলো না?
বারবার যাও বাবার বাড়ি মন তো যেন ভরে না,
খুশি মনে দিলেও তুমি সময়মতো ফেরো না।
রাগের আবেগের কথাকে বানাও, ধারালো কঠিন অস্ত্র,
নিজের কথাকে আড়াল রাখো ভুল হোক তা সহস্র।
কথার দংশনে নীল করো আমায়, বাড়াও মনের ক্ষত,
জয়ী হতে চাও মিথ্যার জালে, স্বার্থ যে তোমার কত!
মনে তোমার দারুণ নেশা, থাকো দেখলে আমার সুদিন,
সংসার ভাঙার পায়তারা তোমার আর হবে কত দিন?
স্বপ্ন নতুন দেখছো নাকি বাঁধবে নতুন ঘর?
তাই বলে কী খুঁজছো খুঁত, করছো আমায় পর!
কীভাবে দেখাও নির্দয় স্বভাব বিষে ভরা মন,
মহাসুখে থেকেও তোমার অভিযোগ থাকত সারাক্ষণ।
সুখের সাগরে ডুবে থেকেও পেলে না কোনো তৃপ্তি,
অশান্তির বিষ ঢেলে নিভালে ভালোবাসার দীপ্তি।
মা হয়েও যদি পাষাণ হও, সন্তান কোথায় পাবে সান্ত্বনা?
সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে সইছি সব যন্ত্রণা।
লেখাপড়া নয় বেড়ানোই বড়, করছো সবই অগ্রাহ্য,
অন্ধ ভবিষ্যৎ গড়ছো ওদের, বলো কী করে করি সহ্য?
সন্তানেরই ভবিষ্যতের তরে আজ সব মেনে নেওয়া,
অসহায় আমি দাঁড়িয়ে একা, শুধু দীর্ঘশ্বাসকে পাওয়া।
নরকের দহন বুকে চেপে আজ সয়ে যাই সব ব্যথা,
সন্তানদের মুখের দিকে চেয়ে লিখি এই বিষাদগাঁথা।
জেদের নেশায় নারী তুমি হায়! হইও না পথহারা,
ছাড় দিয়ে সংসার হয়, বুঝে নিও অন্ধ যারা।
মা-মেয়ের চালাকি স্বামীকে হেলামি করবে আর কত কাল,
বোনের কথায় জেতার নেশায় ছিঁড়ছো নিজের সুখের জাল।
জেদের আগুনে পুড়িও না নারী সংসার নামের স্বপ্নভেলা,
ভালোবাসার বাঁধন ভেঙে কেন গড়ো বিষাদ মেলা?
স্বামীর হৃদয় ভাঙা মানে, ভাঙা নিজের আশ্রয়খানি,
অন্ধ চোখে মিথ্যা জয়ে হারিও না সোনার খনি।
সংসার আজ কারাগার লাগে মনে হয় ক্ষণে ক্ষণে,
ভেবে দেখো-ভালোবাসা ছিলো সেই বন্ধনের গহীনে।
নতুন পথে সুখ খুঁজে কী পাবে তুমি শান্তি?
জেদের চোরাবালিতে ডুবে হারাবে জীবনের কান্তি।
শ্রদ্ধা ভক্তি বিসর্জন দিয়ে পুষছো মনে ঘৃণা,
শ্বশুর-শাশুড়ির কদর যেন হলো আজ অজানা।
স্বার্থের জালে বন্দি তুমি, ডুবে আছো নিজেকে নিয়ে,
আপন তুমি পর করেছো দেয়াল তুলে দিয়ে।
স্বামীর বাড়ির অতিথি এলে আপ্যায়নে টান,
বাবার বাড়ির মেহমান এলে উথলে ওঠে প্রাণ।
বাহারি সব খাবারের মেলায় দাও যে তুমি আজান,
অন্ধ বিবেক বোঝে না তো অপমানের এই বিধান।
স্বামীর আয়ের চিন্তা তুমি-করলে না তো কোনোদিন,
বিলাসিতায় ব্যস্ত হয়ে বাড়াও তুমি স্বামীর ঋণ।
বেহিসাবি খরচে আজ ভাঙছে সুখের ভিত,
বুঝলে না তো অভাবী এই মনের আসল হিত।
বাবার বাড়ির নিয়ম তোমার স্বামীর ঘরে চাই,
জেদের বশে অশান্তিতে স্বস্তি কারো নাই।
পরের ভিটায় নিজের নিয়ম করছো তুমি জারি,
তর্কের বিষে তিক্ত হলো সুখ সাজানো বাড়ি।
অন্ধ অহম আর স্বার্থের টানে করলে আপন পর,
নিজের হাতেই ভাঙলে তুমি নিজের সুখের ঘর।
সংসার আজ ধ্বংসের পথে, মনটা ভীষণ খালি,
একদিন ধ্বংস করবে জানি, জেদের অনলে চোরাবালি।