মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
জগন্নাথপুরে বিশিষ্ট আলেম মাওলানা আলী হোসেনের জানাজা সম্পন্ন: হাজারো মানুষের শোকাতুর বিদায় কবিতাঃ সুখের প্রকোষ্ঠ নিয়ামতপুর-১ ও মান্দা-২ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নতুন এলাকা পরিচালক মুশফিকুর রহমান একটি মিসাইল সব বিশ্বাস নাড়িয়ে দিচ্ছে কবিতা: চরিত্র- কলমে: শিরিনা আক্তার পাওয়া – না পাওয়ার মাঝখানে কবিতাঃ আমি মানবী! ফরিদপুরে ইমাম প্রফেসর ড.কুদরত এ খোদা হুজুরের শুভ জন্মদিন উপলক্ষ্যে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ জোগাতে না পেরে মোরেলগঞ্জে মিষ্টি ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা মোরেলগঞ্জে ১ দিনব্যাপী জিএপি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত: নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান

ছোট গল্প: চোখ

Coder Boss
  • Update Time : রবিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৪
  • ৪২৬ Time View

কলমে: সাহেলা সার্মিন

দীর্ঘ এক মাস পর আজ কলেজ খুলেছে রেনুর। কলেজে যাওয়ার জন্য ঝটপট তৈরী হচ্ছে। কে জানে শান্তা তৈরী হয়েছে কিনা?

শান্তা রেনুর বান্ধবী, খুব অন্তরঙ্গ দু’জনের মধ্যে। একই এলাকায় বাড়ি। রেনুর আগে, শান্তার পরে। রেনু আগে বের হয়ে শান্তাকে সাথে নিয়ে একত্রে কলেজে যায়। দু’জনে একসাথে থাকায় দুই পরিবারের লোকই নিশ্চিন্ত থাকে।

আজ রেনু শান্তার বাড়ি যেয়ে জানতে পারলো ও বাড়িতে নেই, বেড়াতে গেছে। অগত্যা রেনু একাই চলে গেলো কলেজে।

আজ ওর একা একা ভালো লাগছে না। দুই বান্ধবীতে প্রতিদিন গল্প গুজব এবং হাসি তামাসা করতে করতে যায়। কথায় কথায় দূরত্ব ছোট হয়ে আসে। মনে হয় তাড়াতাড়িই কলেজে যেয়ে পৌঁছাতে পারে। ডাবল সিট নিয়ে দুজনে পাশাপাশি বসে গল্প করতে করতে চলে যায়। আজ আর পথ ফুরচ্ছে না রেনুর। মনে মনে ভাবছে শান্তাকে ছাড়া কেনো যে এলাম?

এইচ এস সি ভর্তি হওয়ার পর আজই প্রথম রেনু একা কলেজে যাচ্ছে। গাড়িতে ড্রাইভারের ইঞ্জিনের পাশে একটি সিটে বসেছে ও।নানা ধরণের হেজিটেশন কাজ করছে ওর ভিতর। ড্রাইভারের পেছনের দুই সিট পেছনে একটি ছেলে ওকে খুব পর্যবেক্ষণ করছে। মাঝে মাঝে চার চক্ষু এক হচ্ছে। ছেলেটির চেহারায় এতো মায়া জড়ানো একবার তাকালে আবার তাকাতে ইচ্ছে করে। বিশেষ করে ওর চোখ দু’টো যেনো জাদু জানে।

বাস্তবিকই ছেলেটির চোখ দু’টো ছিলো ভীষণ সুন্দর! একারণেই ইচ্ছে করেই রেনু বারবার দেখছিলো আর মনে মনে বলছিলো, ছেলেদের চোখ এতো সুন্দর হয়! কাজী নজরুলের সুন্দর চোখ নিয়ে পড়েছে রেনু। নজরুলের চোখের দিকে কোনো নারী তাকালেই নাকি প্রেমে পড়ে যেতো। রেনু তখন মনে মনে ভাবতো, এটা কোনো কথা হলো নাকি? চোখের দিকে তাকালেই প্রেমে পড়ে যায়? আজ নিজের জীবনে ঘটায় হাড়ে হাড়ে টের পেলো।

বাড়িতে এসেও ঐ চোখ জোড়া ভীষণ জ্বালাতে লাগলো রেনুকে। যখন তখন ঐ চোখ জোড়া জেগে ওঠে মনের মধ্যে। হাতছানি দেয়, কাছে ডাকে, ভালোবাসে। এখন তার আর শান্তার সান্নিধ্য আগের মতো ভালো লাগে না। এখন তার একা থাকতে ভালো লাগে। একা একা মনের ভিতরে শত স্বপ্ন বুনে চলে। কলেজে যাওয়ার পথে ঐ চোখ জোড়া খুঁজে বেড়ায় প্রতিদিন। শেষে নিজেকে বোঝাাতে না পেরে শান্তার সাথে শেয়ার করলো। তবুও আর কোনোদিন সেই চোখের সন্ধান পেলো না!

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102