শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
খুলনা আর্ট একাডেমির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি অর্জনে গর্বিত প্রতিষ্ঠান মানবিকতার আলোকবর্তিকা স্পেশাল ব্রাঞ্চের মানবিক সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে ক্লাসিক চেস্ ক্লাবের সম্মাননা কবিতাঃ জীবন কবিতা নিয়ামতপুরে সরস্বতী পূজা উদযাপিত জগন্নাথপুরে গণভোটের পক্ষে উৎসাহিত করলেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক গ্রেটার ইসরায়েল শখ মুছে গেলো! জগন্নাথপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনের গণসংযোগ, ভোটারদের ব্যাপক সাড়া বিদ্যুৎ ফাউন্ডেশন: মানবতার আলোর পথে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহবান শোডাউনের মধ্যদিয়ে প্রচারণা শুরু করলেন তুহিন মোরেলগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ভিপিকে গণসংবর্ধনা, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন- অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম

সিঙ্গাপুরে রোমাঞ্চকর এক ভ্রমণ

Coder Boss
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৪
  • ১৯৭ Time View

ডক্টর মোঃ বদরুল আলম সোহাগ
====================

প্রতিটি ভ্রমণই যেন এক নতুন গল্পের সূচনা। ২০২২ সালের মাঝামাঝি, আমি যখন সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম, তখনই বুঝতে পারছিলাম যে এই ভ্রমণটি আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এশিয়ার ছোট্ট এই দ্বীপ দেশটি আধুনিকতা, প্রকৃতি এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক অপূর্ব মিশ্রণ। প্রস্তুতি, যাত্রা এবং সিঙ্গাপুরে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত আমাকে এক নতুন দিগন্তে পৌঁছে দিয়েছিল। আজ আপনাদের সেই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার গল্প শোনাবো।

### **ভ্রমণের প্রস্তুতি ও যাত্রা শুরু**
যে কোনও ভ্রমণের মতোই, সিঙ্গাপুর ভ্রমণের আগে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া দরকার ছিল। ভিসা, ফ্লাইট বুকিং এবং থাকার ব্যবস্থা—সব কিছুই ধাপে ধাপে সম্পন্ন করেছিলাম। ইন্টারনেটে বিভিন্ন ভ্রমণ ব্লগ পড়ার পর বুঝলাম, সিঙ্গাপুরের মতো একটি পরিকল্পিত শহর ঘুরতে হলে বেশ কিছু জায়গা আগে থেকেই চিহ্নিত করে নেওয়া ভালো। গন্তব্যের তালিকায় যুক্ত করেছিলাম মেরিনা বে স্যান্ডস, গার্ডেনস বাই দ্য বে, সেন্টোসা দ্বীপ, এবং ইউনিভার্সাল স্টুডিওস।

ফ্লাইট ছিল ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে। বিমানটি যখন আকাশে উড়লো, মন ভরে গেল ভবিষ্যতের উত্তেজনায়। চমৎকার আবহাওয়া আর সমুদ্রের ওপরে সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছিল, ভ্রমণ শুরু হওয়ার আগেই যেন রোমাঞ্চ শুরু হয়ে গেছে।

### **প্রথম দিন: আধুনিক স্থাপত্যের শহর**
সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পর, প্রথম যে বিষয়টি নজরে আসে তা হলো শহরের পরিচ্ছন্নতা এবং পরিপাটি পরিকল্পনা। চাঙ্গি বিমানবন্দর নিজেই যেন একটি দর্শনীয় স্থান। বিশাল “জুয়েল চাঙ্গি” শপিং মল, তার মাঝখানে অবস্থিত বিশাল ওয়াটারফল দেখে বিমোহিত হয়ে পড়েছিলাম।

সেদিন সন্ধ্যায় মেরিনা বে স্যান্ডস এলাকায় গিয়েছিলাম। বিল্ডিংটির স্থাপত্যশৈলী সত্যিই অসাধারণ। সন্ধ্যার আলোয় ঝলমল করতে থাকা ভবনটি যেন সিঙ্গাপুরের আধুনিকতার প্রতীক। সেখান থেকে আমরা গার্ডেনস বাই দ্য বে-তে যাই। গার্ডেনের সুপারট্রি গ্রোভের আলোকিত কাঠামো এবং মিউজিক্যাল শো যেন স্বপ্নের মতো।

### **দ্বিতীয় দিন: ইউনিভার্সাল স্টুডিওস এবং সেন্টোসা দ্বীপ**
সিঙ্গাপুরে দ্বিতীয় দিন ছিল অ্যাডভেঞ্চারের জন্য বরাদ্দ। সেন্টোসা দ্বীপে অবস্থিত ইউনিভার্সাল স্টুডিওসে কাটানো মুহূর্তগুলো ছিল এই ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ। থিম পার্কের প্রতিটি রাইড যেন একেকটি ভিন্ন দুনিয়ায় নিয়ে যায়।

রোলার কোস্টারের উত্তেজনা, ট্রান্সফর্মারস শো-এর বাস্তব অনুভূতি, এবং “দ্য মমি”-এর থিমযুক্ত রাইড সবই ছিল অসাধারণ। সেন্টোসা দ্বীপের বাকি অংশটিও কম রোমাঞ্চকর ছিল না। বীচের নরম বালি আর শান্ত সমুদ্রের দৃশ্য সত্যিই প্রশান্তিদায়ক।

### **তৃতীয় দিন: চায়না টাউন, লিটল ইন্ডিয়া এবং ঐতিহ্যের সন্ধান**
তৃতীয় দিনটি সিঙ্গাপুরের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য অন্বেষণে কাটিয়েছিলাম। সকালে গেলাম চায়না টাউনে। প্রাচীন মন্দির, রঙিন দোকান, আর চীনা খাবারের গন্ধে এলাকা যেন প্রাণবন্ত।

এরপর লিটল ইন্ডিয়ায় গিয়ে অনুভব করলাম এক টুকরো ভারতের অস্তিত্ব। হিন্দু মন্দির, দক্ষিণ ভারতীয় খাবারের দোকান, এবং বর্ণিল সজ্জা আমাকে অভিভূত করেছিল। সিঙ্গাপুরের এই বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিগুলো দেখেই বোঝা যায়, এটি শুধুমাত্র আধুনিকতার শহর নয়; এটি এক ঐতিহ্যের সমন্বয়।

### **চতুর্থ দিন: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে**
সিঙ্গাপুরের শুধু আধুনিক অংশ নয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও আমাকে মুগ্ধ করেছে। সকালে গেলাম সিঙ্গাপুর বোটানিক গার্ডেনে। সেখানে শত বছরের পুরোনো গাছ, অর্কিড গার্ডেনের রঙিন ফুল, এবং শান্ত পরিবেশ সত্যিই মনোমুগ্ধকর।

দুপুরে যাত্রা করি সিঙ্গাপুর জু জু-তে। এই জু বিশ্ববিখ্যাত, এবং এর “নাইট সাফারি” আমার পুরো ভ্রমণের একটি অনন্য অভিজ্ঞতা। অন্ধকার রাতে বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর কাছাকাছি আসার অভিজ্ঞতা ছিল সত্যিই শ্বাসরুদ্ধকর।

### **শেষ দিন: শপিং এবং বিদায়**
শেষ দিনটি ছিল শপিং এবং শহরের আরও কিছু জায়গা ঘোরার জন্য। অরচার্ড রোডে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের দোকানে কেনাকাটা করে দিন শুরু করেছিলাম। এরপর গেলাম ক্লার্ক কুয়ে, যেখানে নদীর পাড়ে বসে কফি খেতে খেতে সূর্যাস্ত দেখেছিলাম।

সিঙ্গাপুর থেকে ফেরার সময় মনে হয়েছিল, এই ছোট্ট দেশটি তার বৈচিত্র্য, আধুনিকতা, এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাধ্যমে আমার মনে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।

সিঙ্গাপুর ভ্রমণ আমার জীবনের এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। প্রতিটি স্থান, প্রতিটি মুহূর্ত নতুন কিছু শেখার এবং উপভোগ করার সুযোগ করে দিয়েছিল। আধুনিকতা এবং ঐতিহ্যের এই মিশ্রণে যে সৌন্দর্য, তা যে কাউকে মুগ্ধ করবে। সিঙ্গাপুর আমার মনে এক রঙিন স্মৃতি হয়ে থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102